এবার আরো কিছু ছন্দ নিয়ে আলোচনা করা যাক। অবশ্য অনেকে এই ছন্দ গুলোকে অক্ষরবৃত্তের অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু আসলে এসব ছন্দ অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত বা স্বরবৃত্ত তিন ছন্দেই বাঁধা সম্ভব।
১। পয়ার
২। মহাপয়ার
৩। প্রবাহমান পয়ার ও মহাপয়ার
৪। অমিত্রাক্ষর ছন্দ
৫। দীর্ঘ ত্রিপদী
৬। দীর্ঘ চৌপদী
৭। দিগক্ষরা
৮। লঘু ত্রিপদী
৯। লঘু চৌপদী
১০। একাবলী
পয়ার
দুটি চরণের মাধ্যমে একটি পয়ার তৈরি হয়। আর প্রতিটি চরণে দুটি পর্ব থাকে। প্রথম পর্বে মাত্রা সংখ্যা থাকে আট এবং দ্বিতীয় পর্বের মাত্রা সংখ্যা হয় ছয় অর্থাৎ ৮+৬ হবে। অক্ষরবৃত্তে ৪+৪+৪+২ ছন্দকেও ৮+৬ হিসেবে বাঁধা যায়। কিন্তু চরণের জন্যে সেই ছন্দকে পয়ার থেকে আলাদা করে। পয়ারে চরণদুটি পরস্পর মিত্রাক্ষর হবে অর্থাৎ চরণের শেষে অন্ত্যানুপ্রাস শব্দালংকার থাকবে। প্রতি চরণের শেষে ভাবের আংশিক বা সামগ্রিক পরিসমাপ্তি ঘটে।
মহাপয়ার
মহাপয়ারেও দুটি চরণ এবং প্রতিটি চরণে দুটি পর্ব থাকে। প্রথম পর্বে মাত্রা সংখ্যা থাকে আট এবং দ্বিতীয় পর্বের মাত্রা সংখ্যা হয় দশ হবে অর্থাৎ ৮+১০ হবে। অক্ষরবৃত্তে ৪+৪+৪+৪+২ ছন্দকেও ৮+১০ হিসেবে বাঁধা যায়। কিন্তু চরণের জন্যে সেই ছন্দকে মহাপয়ার থেকে আলাদা করে। মহাপয়ারেও চরণদুটি পরস্পর মিত্রাক্ষর হবে অর্থাৎ চরণের শেষে অন্ত্যানুপ্রাস শব্দালংকার থাকবে। এখানেও প্রতি চরণের শেষে ভাবের আংশিক বা সামগ্রিক পরিসমাপ্তি ঘটে।
প্রবাহমান পয়ার ও মহাপয়ার
যে পয়ার বা মহাপয়ারে প্রতি চরণের শেষে ভাবের আংশিক বা সামগ্রিক পরিসমাপ্তি হওয়ার অনিবার্য নয়, ভাব প্রয়োজন মতো চরণ থেকে চরাণান্তরে প্রবাহমান হতে পারে তাকে প্রবাহমান পয়ার ও মহাপয়ার বলে। এদের কেউ কেউ সমিল অমিত্রাক্ষরও বলে থাকেন।
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
যে পয়ারে অন্ত্যানুপ্রাস অলংকার থাকে না কিন্তু পয়ারের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে তাকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ বলে।
দীর্ঘ ত্রিপদী
দীর্ঘ ত্রিপদীতে দুটি পরস্পর মিত্রাক্ষর চরণ, প্রতি চরণে তিনটি করে পর্ব থাকবে এবং প্রথম দুই পর্বেই শুধু অন্ত্যানুপ্রাস থাকে। এর মাত্রা ৮+৮+১০ হবে। এটার একটা উদাহরণ দেওয়া প্রয়োজনবোধ করছি। উদাহরণটি আমি দেওয়ার চেষ্টা করলাম।
ভালবেসেই তো হয়েছি/ যেন বিষ পান করেছি
৮+৮
হৃদয়ে ব্যাথা সান্ধ্য বিকেলে;
১০
এই যেন বর্তমান/ সকালটা থাকে ম্লান
৮+৮
এখনো আমি বেশ সেকেলে।
১০
কবিতাটা উচ্চমানের হয়নি, তবে বুঝা যাচ্ছে মনে হয়। দীর্ঘ ত্রিপদীকে আমি অক্ষরবৃত্তে বাঁধার চেষ্টা করেছি।
দীর্ঘ চৌপদী
দীর্ঘ ত্রিপদির সাথে এর পার্থক্য হচ্ছে এখানে টোটাল চারটি পর্ব থাকবে এবং প্রথম চরণে তিনটি পর্ব থাকবে। অর্থাৎ এটি ৮+৮+৮+৬ ছন্দে বাঁধতে হবে।
দীগক্ষরা
এই ছন্দে প্রতি চরণে দুপর্ব এবং প্রতি পর্বে দশ মাত্রা থাকে অর্থাৎ ১০+১০।
লঘু ত্রিপদী
এখানে দুটি পরস্পর মিত্রাক্ষর চরণে তিনটি করে পর্ব থাকে। মাত্রা বাঁধতে হবে ৬+৬+৮ হিসেবে।
লঘু চৌপদী
এখানে দুটি পরস্পর মিত্রাক্ষর চরণে চারটি করে পর্ব থাকে। মাত্রা বাঁধতে হবে ৬+৬+৬+৫ হিসেবে।
একাবলী
এখানে প্রতি চরণে এগারো মাত্রা করে থাকে এবং প্রতি পর্বে মাত্রা ৬+৫ হিসেবে বাঁধতে হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment