উত্তর আধুনিক ভাবনা
তাহমিদুর রহমান
আমরা কেন উত্তর আধুনিককে স্বীকার করব? অনেক বড় একটা প্রশ্ন। এখন ভেবে দেখুন, এই যে আমরা একটা ক্লিকের মাধ্যমে নিজের লেখাগুলো মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছি এর প্রভাব কি আমাদের সাহিত্য জগতে প্ড়বে না। বর্তমানে বিজ্ঞানের যে প্রচার প্রসার তাতে কম্পিউটার, ইন্টারনেট ছাড়া অনেকেই ভাবতে পারেন না। আমাদের গ্রামে গঞ্জেও আজ বিজ্ঞানের হাত রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা বলি দেশের উন্নতি হচ্ছে। পরীক্ষাগারে ক্লোন করে তৈরি করা হচ্ছে হুবহু একই ধরনের আরেকটা প্রাণী কিংবা তৈরি করা হচ্ছে কৃত্রিম জিনের প্রাণী। মানুষকে হয়ত স্রষ্টা বলার যাবে না কিন্তু এর প্রভাব ঠিকই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে পড়তে বাধ্য। মানুষের হাতে বানানো রোবট এখন গান গায়, রান্না করে, ফুটবল খেলে। আমরা কি বুঝতে পারছি না আরেক এক শতাব্দী পরে আমাদের জীবনে কি রকম আমূল পরিবর্তন হতে চলেছে?
আমরা এখন কপি পেস্ট করতে ব্যস্ত। ইন্টারনেটেই পাওয়া যাচ্ছে সাহিত্য, গোটা বিশ্বের সাহিত্য চিন্তা করুন। গুগল সার্চ দিলেই বেরিয়ে আসে শত শত দেশের সাহিত্য সম্ভার। তাই সাহিত্য নিয়ে মৌলকতা বিষয়টি আসতে বাধ্য। দেশীয় সংস্কৃতির মাঝে অনেকভাবেই ঢুকে পড়ছে বিদেশী সংস্কৃতি। আমি আপনি যত চেষ্টা করি কিন্তু এটা রোধ করা অসম্ভব। এর কারণে হাজার হাজার সংস্কৃতি মিলেমিশে থাকছে। এই যে আমাদের দেশের নতুন প্রজন্ম যেমন রবীন্দ্র সংগীত নিয়ে মাতে তেমনি ইংরেজি হিপ হপ গান নিয়েও ব্যস্ত। আপনি সেটাকে কিভাবে রোধ করবেন? তাই অজ্ঞাতভাবে হলেও বিদেশী সংস্কৃতি ঢুকে পড়তে বাধ্য যেটাকে আমরা ইংরেজিতে বলি গ্লোবালাইজেশন। এই গ্লোবালাইজেশনই উত্তর আধুনিক কবিতা। এটা বলার উপেক্ষা রাখে না যে, পাশাপাশি অনেক সংস্কৃতি থাকার কারনে বরং বৈচিত্র বেড়েছে। এই বৈচিত্রের সাথে প্রযুক্তির বিস্ফোরনই উত্তরাধুনিক যুগের আগমনের জন্যে দায়ী।
শিল্প বিপ্লব যেমন এনে দিয়েছিল আধুনিকতা তেমনি কম্পিউটার প্রযুক্তি উত্তর আধুনিকতার জন্যে দায়ী। মার্ক্সবাদীরা এই উত্তর আধুনিককে মানলেন না। এর কারনও আছে বটে। মার্ক্সবাদীরা এই তত্ত্বকে বিজ্ঞান ভাবলেও মোটেও তা বিজ্ঞান না। এতে মার্ক্সবাদীদের মনে সংশয় কাজ করে। ফলে তারা এই নতুন প্রযুক্তির বিস্ফোরনকে দেখতে পেলেন না। একটা উদাহরন দেওয়া যাক। ধরা যাক, একটা অফিসে দশটা কাজ করতে যদি দশজন লোক লাগত তবে কম্পিউটার প্রযুক্তির কারণে তা একজনের পক্ষেও করা সম্ভব। এত এত কাগজ, ফাইল দরকার নেই শুধু একটা ফোল্ডারের ক্ষুদ্র অংশই তার জন্যে যথেষ্ট। মার্ক্সবাদীরা এই নিয়ে চিন্তা করেননি বলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
উত্তর আধুনিকতা এমন একটা বিষয় যা আমাদের সংস্কৃতিকে নতুনভাবে ভাবনার সুযোগ এনে দিচ্ছে। ভাষাতত্ত্ব, মনতত্ত্ব, দার্শনিকতত্ত্ব কিংবা বামপন্থী রাজনীতি যেন দম আটকে মারা যাচ্ছে। এরই সুযোগ নিচ্ছে উত্তর আধুনিকতা, নতুন মেলবন্ধনে বাঁধতে চাইছে যেন সবকিছুকে।
উত্তর আধুনিকতা দিনের পর দিন আমাদের কাছে বড় হয়ে উঠছে যার জন্যে অতীতের নিয়ম কানুন তার প্রয়োজনীয়তা হারাচ্ছে। উত্তর আধুনিকতা সবকিছু ভাংগছে খণ্ড খণ্ড করে। কোন জ্ঞানকেই নির্দিষ্টতা দেওয়া যাচ্ছে না, নির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় রাখা যাচ্ছে না এবং স্বাভাবিকভাবে কোন কিছুর নির্দিষ্ট সংগাও দেওয়া যায় না। ফলে উত্তর আধুনিকতা আমাদের জন্যে এমন আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে যে, একে নির্দিষ্ট ছকে ফেলে নিজেদের পায়ে আর শেকল পড়াতে হচ্ছে না।
একই সময়ে জন্ম নেয়া কবিতাবলী হতে পারে একই ভাবনার, একই উপলক্ষ্যের, একই চাহিদার, একই রোমান্টিসিজমের, একই সত্য-মিথ্যার উপর দাড়িয়ে কিংবা এরকম হাজারটা একই বিষয়ের উপর। কিন্তু সেইসব একই ধ্যান-ধারনা কয়দিন টিকছে, প্রতিনিয়ত তা পাল্টাচ্ছে এবং সবকিছুই ক্ষনস্থায়ী। তবে কেন সুনির্দিষ্ট ছকে কবিতাকে ফেলা? কবিতার বিষয়-আশয় কারও নিজস্ব সম্পত্তি নয় যে কোনভাবেই কোন পরিবর্তন আনা যাবে না। কিংবা আগের যুগের রাজাদের আইন না মানলেই যে মৃত্যুদন্ড হবে তারও কোন ভিত্তি নেই। অনেকে বলতে পারেন জীবনে নিয়ম-নীতি মানছেন আর কবিতার বেলাতেই এইসব আজগুবি কথা বলছেন? তবে বলুন আমাদের জীবনে কোন মানুষের পক্ষে সব ধরনের নিয়ম-নীতি মেনে চলা সম্ভব? একজন সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস আনছে আর আরেকজন আনছে না। তখন কি বলবেন, যে বিশ্বাস আনেনি তাকে মেরে ফেলা হোক। যদি এই সিন্ধান্তই নেয়া হয় তবে সেটা মৌলবাদী চিন্তা ভাবনা। একজন হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে গরুর মাংস খাই না কিন্তু এমনও হিন্দু আছেন যারা গরুর মাংস ঠিকই খান। কিন্তু এরপরও দেখা যায় সে গীতাকেই পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে মানে। তাই জীবনকে ভাল-মন্দের উর্ধ্বে রাখতে হবে ঠিক তেমনি কবিতা সম্পর্কে চিন্তা ভাবনাও ভিন্নভাবে করা উচিত। কবিতার সবকিছু হতে হবে সামগ্রিক এবং খোলামেলা। এখানে প্রথা বিরোধী বলে কিছু নেই কারন কোন প্রথারই এখানে স্থান আর নেই। আমরা জীবনে কত নিয়ম-নীতি মানছি না ফলে কবিতাকেও নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে ফেলার কোন কারন দেখছি না। আমি যদি আপনাকে ঘর বন্দী করে রাখি তবে নিশ্চয় একজন মুক্ত মনের মানুষ হিসেবে সেটা আপনার ভাল লাগার কথা নয়। কবিতাকে স্পর্শ করুন, তাকে নিয়ে ভাবুন, কবিতাও সেই একই আর্তনাত করে ফিরছে। বরং উত্তর আধুনিকতা কবিতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে যেখানে স্বাধীনতা থাকবে অপার। রবীন্দ্রনাথের সময়কে বলা হয় রোমান্টিসিজমের যুগ, আধুনিকতাকে বলা হয় বিষণ্নতার যুগ। কেন এমন হবে? মানলাম নানা ক্রমবিকাশের মাধ্যমে আমরা বর্তমান অবস্থায় এসেছি কিন্তু এখনও কেন এরকম নির্দিষ্টতা। কবিতাকে একজন কবি জীবন দান করে অথচ তার গলায় রশি পড়িয়ে রাখা হবে তাতো হতে পারে না। যেখানে আমরা দেশের সব কালচারকে খুব কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছি তবে কেন কালচারকে একটা নির্দিষ্ট জায়্গায় বেঁধে রাখব। এবার বলবেন, অন্য কালচারের অনুপ্রবেশে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যাবে না। সত্যি বলছি এটাও একটা ভুল ধারনা। কারন প্রকৃ্তি নিজেই হাজারটা বৈচিত্র পছন্দ করে। এই ডাইভারসিটির যুগে এই বৈচিত্রকে অস্বীকার করাটাই মৃত্যুর শামিল। আমেরিকা আজ সমৃদ্ধশালী দেশ, কিভাবে? কারণ তারা নানা দেশের মানুষকে, নানা দেশের কালচারকে একসাথে থাকার সুযোগ এনে দিয়েছে। আজ আমাদের দেশ থেকে একজন সেইসব দেশে গেলে আর ফিরে আসতে চায় না। অনেকগুলো কারনের ভিতর একটি কারন হচ্ছে এটাই আমদের দেশে এখনও মুসলমান হলে এক নিয়ম, হিন্দু হলে আরেক নিয়ম আর আদিবাসী হলে অন্য নিয়ম। সময় এসেছে এসব নিয়মনীতির উর্ধ্বে চলে যাওয়া। আধুনিকতা সমাজ শ্রেণী বৈষম্য, পুঁজিবাদের শোষন ইত্যাদির কারনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এসব সমাজ থেকে বিতাড়নের সময় এসেছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনসমষ্টি বিভিন্ন জায়গায় সংগ্রাম করবে কারন বড় জনসমষ্টিকে একসাথে বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যাবে না। তাই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনসমষ্টিই সংগ্রাম করে যাবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রশ্ন উঠতে বাধ্য যে নিয়ম-কানুন না মানলে বিশৃ্ংখলার সৃষ্টি হবে। এর উত্তরে বলতে চাই, কোন নিয়মটা ভাংগা উচিত আর কোন নিয়মটা ভাংগা উচিত নয় সেটা কবির হাতেই ছেড়ে দিন। রাস্তায় চলার সময় আমরা অনেক সময় ইউ টার্ণ বন্ধ করে দেই নিজেদের স্বার্থেই, আবার উঠিয়ে নেওয়া নিজেদেরই স্বার্থে। দেখা গেল যে সময়ে ইউ টার্ণ বন্ধ করা হয়েছিল সে সময়ে ট্রাফিক এত বেশি ছিল যে বন্ধ না করলে দূর্ঘটনা ঘটার সমূহ সম্ভবনা আবার তুলে দেওয়া হল সেই সময়ে যখন দেখা গেল শহরের ঐ রাস্তাটা এখন কম ব্যবহার হচ্ছে। ট্রাফিক সেই রাস্তার চেয়ে অন্য রাস্তাটা বেশি পছন্দ করছে বা নতুন রাস্তা তৈরির ফলে এই রাস্তাটা তেমন ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে দেখা যাচ্ছে নিয়ম কানুন আমাদের নিজেদের প্রয়োজনের কারনে তৈরি করছি আবার নিজের কারনেই ভাংগছি। কবিতার গড়া ভাংগাটাও যুগ যুগ ধরে এভাবেই পাল্টিয়ে আসছে। তাই সময় এসেছে কবিতাকে কোন নির্দিষ্ট সংগায় সংগায়িত না করা। কবি যা লিখবে তাই নিয়ম হওয়া উচিত।
এখন আসা যাক আধুনিক এবং উত্তর আধুনিকের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কিনা? হ্যাঁ আছে যেটা নিয়ে আমরা অনেকেই জানি না বলে এটিকে মিথ্যে বলছি।
ইহাব হাসানের একটি সারণী আছে যেখানে এই দুইয়ে্র পার্থক্য করা আছে যেটা কিনা নিতাই জানার পোস্টমডার্ন ও উত্তর আধুনিক বই থেকে উদ্ধৃত করা হল। শুধু সাহিত্য নয় তিনি দর্শন, নৃবিজ্ঞান, মনঃসমীক্ষণ, রাজনীতি সব নিয়েই এই পার্থক্য গড়েছে্ন।
মডার্নিজম-পোস্টমডার্নিজম
রোমান্টিক/প্রতীকবাদ-দাদাবাদ
রূপ (বদ্ধ, সংযোজক)-প্রতিরূপ (বিচ্ছিন্ন, মুক্ত)
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত-ক্রীড়া
আকল্প-অপ্রত্যাশিত
ক্রমপর্যায়-নৈরাজ্য
পাণ্ডিত্য/শাব্দিক-নিঃশেষ/ নৈঃশব্দ
শিল্পবস্তু/নিখুঁত-প্রক্রিয়া/ঘটনা
দূরত্ব-অংশগ্রহন
সৃজন/সমগ্রায়ন-বিসৃজন/বিনির্মাণ
সংশ্লেষ-বিরোধ
উপস্থিতি-অনুপস্থিতি
কেন্দ্রিকতা-বিকেন্দ্রিকতা
ধরন/সীমা-বয়ান/আন্তর্বয়ান
শব্দপ্রকরণ-অন্বয়
অধীনতাকরণ-অনধীনতাকরণ
উৎপ্রেক্ষা- অনুকল্প
নির্বাচন-মিশ্রণ
মূল/গভীরতা-আনুভূমিক কাণ্ড/অগভীর
ব্যাখ্যা/পাঠযোগ্য-ব্যাখ্যা বিরোধিতা/ভিন্নপাঠ
কৃ্তঅর্থ-অর্থকারক
পাঠকেন্দ্রিক-লেখককেন্দ্রিক
আখ্যান-আখ্যান বিরোধিতা/ভিন্নপাঠ
ধর্মপিতা- পবিত্রআত্না
লক্ষণ-আকাঙ্ক্ষিত বস্তু
জনন সম্বন্ধীয়/লিংগমূর্তি সংক্রান্ত- বহুঅংগ/ অর্ধনারীশ্বর
প্যারানইয়া-সিজোফ্রেনিয়া
উৎস/কারণ-পার্থক্য/ পার্থক্য হয়ে উঠার চিহ্ণ
অধিবিদ্যা-শ্লেষ
নির্ণেয়তা-অনির্ণেয়তা
অতিক্রমণ- সর্বব্যাপক
এই সারণীটি শেষ হওয়ার পর লেখা আছে,
“আসলে মডার্নিজম যখন বিশেষ একটি লক্ষণে সীমাবদ্ধ পোস্টমডার্ন তখন বিশেষে আবদ্ধ নেই, সে রাউন্ড, সে ঘুরছে। লেভি-স্ত্রস নৃ্তত্ত্ববিদ্যাকে সমাজবিজ্ঞানগুলির মধ্যে বীজাকারে লক্ষ্য করেছিলেন এবং তাই-ই ছড়িয়ে পড়েছে প্রকৃতি-বিজ্ঞান সমূহে। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। ভাষাতত্ত্ব, সমাজবিদ্যা, ইতিহাস, মনোবিদ্যা এমন কী অঙ্কশাস্ত্র ইত্যাদি পোস্টমডার্ন শিল্পকলার মধ্যে যেন ঘুম ভেংগে উঠছে আজ। আগামী দিনে তার আরো বিচিত্রতা হয়তো স্পষ্ট হয়ে উঠবে।”
এবার নিজেই কিছু পার্থক্য করার চেষ্টা করি আধুনিক এবং উত্তর আধুনিকের মধ্যে...
১। আধুনিক যে শ্রেণী সমাজ মেনে নেই যা বাস্তবে আছে কিন্তু উত্তর আধুনিকেরা তার বিরোধী।
২। আধুনিকরা মনে করতেন মনুষ্যত্বের বিস্তৃতি যুক্তিতর্ক এবং বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল কিন্তু উত্তর আধুনিকেরা মনে করেন একমাত্র সংস্কৃতি দিয়েই মানুষের মনুষ্যত্বকে তুলে আনা সম্ভব।
৩। আধুনিকরা তর্কশাস্ত্রতে বিশ্বাসী ছিল কিন্তু উত্তর আধুনিকেরা তা নয়। বরং উত্তরা আধুনিকদের ধারণা অবৈজ্ঞানিক।
৪। আধুনিকদের কাছে জ্ঞানের একটা সংগা থাকলেও উত্তর আধুনিকদের কাছে এর কোন অর্থ নেই।
৫। আধুনিকেরা শোকবহতাকে তুলে ধরতেন, উত্তর আধুনিকেও তা আছে তবে উদ্দেশ্যবিহীন।
৬। আধুনিকেরা কাজ করে প্রমাণসহ কিন্তু উত্তর আধুনিকেরা ব্যবহার করে পরাবাস্তবতা।
৭। আধুনিকতা সর্বজনীন সত্য বিশ্বাস রাখলেও উত্তর আধুনিকরা তা করে না। অতীতে যে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা নিয়ে আধুনিকেরা নাড়াচাড়া করেন, উত্তর আধুনিকেরা তার বিরোধী। একমাত্র সত্য বলে কিছু নেই, শাশ্বত বলে কিছু নেই, ব্যাখ্যাহীন ও প্রশ্নহীন বলে কিছু নেই।
৮। আধুনিকেরা ছিল বস্তু নির্ভর, মতবাদ নির্ভর কিন্তু উত্তর আধুনিকতা শুধুই বিষয় নির্ভর।
৯। উত্তর আধুনিকরা ছন্দের সংখ্যা-সখ্যতা পরিহার করেছে এবং অর্থবোধকতা ও ভাষা্র অবিনবত্বের কারি্গরিতে অনেক বেশি মনোযোগী।
১০। কোন কবিকেই বিশেষনের বিশেষ নামে ডাকা যাবে না। এই একরৈখিক মনোভাব উত্তর আধুনিকেরা পরিহার করেছে।
১১। কবিতার ভাষা পাঠককে নির্দিষ্ট কোন ম্যাসেজ দিবে না এবং কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছানো যাবে না, শেষ বলে কিছু নেই। বিপরীতধর্মী বক্তব্য দিয়ে গড়ে উঠবে এর শরীর।
১২। কবিতা আলোচনা হবে কবিতার বিষয় আশয় নিয়ে, কবিকে নিয়ে নয়।
আমাদের বহু কবি অজ্ঞাতভাবে এই বিষয়গুলি দিয়েই সাহিত্য রচনা করেছেন তাহলে উত্তর আধুনিক মেনে নিতে সমস্যা কোথায়? আধুনিকদের অনেক উপকরণের বীজ আমাদের সাহিত্যেও ছিল এবং উত্তর আধুনিকদের বীজও আমাদের সাহিত্যেই আছে। আমরা যদি আধুনিককে মেনে নিতে পারি তবে সুনির্দিষ্ট বিভাজন সত্ত্বেও কেন উত্তর আধুনিকতা থাকবে উপেক্ষিত। তবে এটা না বলে পারছি না, যারা উত্তর আধুনিককে অস্বীকার করছেন তাদের যেমন স্বাগত জানাতে পারছি না তেমনি যারা উত্তর আধুনিকতাকে নিয়ে নগ্ন ব্যবসায় মেতেছেন তাদেরকেও স্বাগত জানাতে পারছি না।
Friday, September 2, 2011
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment