Wednesday, February 16, 2011

বানান বিতর্ক-২

১৪। শব্দের শেষে সাধারণত তি প্রত্যয়ে ই-কার হয়। যেমন,- প্রীতি, মিতি, পরিণতি ইত্যাদি। তবে, কৃতী, ঘাতী, বতী, বর্তী, ব্রতী, ব্রততী, ভারতী, মালতী, শ্রীমতী, সতী, সরস্বতী ইত্যাদি শব্দের শেষে তী হবে।

১৫। দ্বিরাবৃত্ত শব্দের শেষে ই-কার হবে। যেমন,- খোলাখুলি, ছাড়াছাড়ি, জোরাজুরি, ধরাধরি, হুড়োহুড়ি ইত্যাদি।

১৬। তৎসম শব্দের ঋ/র/র-ফলা/রেফ/ষ/ক্ষ এর পর “ন” ধ্বনি “ণ” হবে। যেমন,- ঋণ, ঘৃণা, ত্রাণ, কর্ণ, ভীষণ, বিষ্ণু ইত্যাদি। আবার এদের পরে যদি এক বা একাধিক ক-বর্গ(ক/খ/গ/ঘ/ঙ), প-বর্গ(প/ফ/ব/ভ/ম) এবং (য/য়/হ/অনুস্বার) থাকলেও “ন” ধ্বনি “ণ” হয়। যেমন রমণী, শ্রাবণ, আক্রমণ বৃংহণ। তবে
ক) অন্য কোন বর্গে বা বর্ণের পরে “ন” ধ্বনি “ণ” হয় না। যেমন রচনা।
খ) শব্দের অন্তে হসন্তযুক্ত থাকলে তা “ণ” হয় না। যেমন, শ্রীমান্
গ) কোন কোন সন্ধিজাত ও সাধিত শব্দের বেলায় এই নিয়ম খাটে না। যেমন, নিঃ + পন্ন = নিষ্পন্ন, দুর্ + নাম = দুর্নাম। । সুতরাং সাধিত শব্দের আগের পদের শেষ বর্ণ ঋ/র/ষ/ক্ষ থাকলে “ন” অপরিবর্তিত থাকে। তবে এরও ব্যতিক্রম আছে। পরি, প্র, নির্ এ তিনটি উপসর্গ থাকলে “ন” ধ্বনি “ণ” হয়। যেমন,- পরিণত, প্রণত ইত্যাদি। আবার সাধিত শব্দ হওয়া সত্ত্বেও “র” এর প্রভাবে “ন” ধ্বনি “ণ” হবে। যেমন, অগ্রণী, গ্রামীণ। কিন্তু অগ্রনেতা, অগ্রনায়ক শব্দে “ন” হবে।

১৭। সাধারণত বিদেশি শব্দে “শ” হয়। যেমন,- ইংরেজি শব্দে cean/tion/ssion/sh/s/ থাকলে “শ” হয়। তারপর আরবি-ফারসি শব্দে “শিন” থাকলে “শ” হয়। যেমন, ইংলিশ, কমিশন, ক্যাশ, জংশন ইত্যাদি ইংরেজি শব্দের বাংলা বানান। আবার আয়েশ, আরশ, তালাশ, শিশি, শুমার ইত্যাদি আরবি-ফারসি শব্দ। এখানে উল্লেখ্য যে, police শব্দও বাংলায় পুলিশ লেখতে হবে।

১৮। ত/থ এর সাথে যুক্তব্যঞ্জন গঠনের সময় আগের বর্ণ “স” হবে। যেমন,- অস্ত, ব্যস্ত, স্থপতি ইত্যাদি।

১৯। ক/খ/গ/ঘ/ক্ষ এদের সাথে নাসিক্য বাঞ্জন যুক্ত হলে ঐ বর্গের নাসিক্য ব্যঞ্জন বা “ঙ” যুক্ত হয়। যেমন অঙ্ক, আকাঙ্ক্ষা, অঙ্গ, লঙ্ঘন ইত্যাদি।

২০। বিদেশি শব্দের বানানে অবশ্যই “ব্যা” হবে, ব্য না। যেমন,- ব্যাজ, ব্যাট ইত্যাদি। কিন্তু মৌলিক শব্দে দুটোই হতে পারে। যেমন, অব্যয়, মহাব্যাধি। আবার শব্দের শেষে তব্য প্রত্যয় থাকলে ব্য আসে। যেমন,- কর্তব্য। এমনকি শব্দের শেষ বর্ণ “ব” এর সাথে য-প্রত্যয় যুক্ত হলে ব্য হয়। যেমন, নব্য। আবার কোথাও কোথাও ব্য-প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার ফলে ব্য আসে। যেমন,- ভাতৃব্য।
২১। ক্রিয়া বাচক শব্দের বানানে সাধারণত “জ” হবে। যেমন, জাগা, ভাজা। তবে যাওয়া, যায়, যাচা, যোগানো ইত্যাদিতে “য” হয়। এমনকি শব্দের শেষে “য” স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না তাই সেখানেও “জ” হয়। যেমন।– অগ্রজ, খনিজ। আর বিদেশি শব্দে অবশ্যই “জ” হবে। যেমন, ইজারা, এজেন্ট, আওয়াজ, উজাড়, কামিজ ইত্যাদি। তবে,
ক) আরবি-ফারসি বানানে “য” স্বাধীনভাবে ব্যবহার হয়। যেমন, আযান, ওযু, নামায, রোযা, যাকাত, হযরত ইত্যাদি।
খ) বিদেশি বানানে Y এর প্রতিবর্ণ “য” হয়। যেমন, Yugoslavia (যুগোশ্লাভিয়া)

রেফারেন্সঃ
হুমায়ুন আজাদ ও অন্যান্য (সম্পা), বাঙলা ভাষা, ঢাকা, ১৯৮৪
মুহম্মদ আবদুল হাই, ধ্বনিবিজ্ঞান ওঃ বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব, চতুর্থ মুদ্রণ, ঢাকা, ১৯৮৫
ড. মাহবুবুল হক, বাংলা বানানের নিয়ম, সপ্তম মুদ্রণ, ঢাকা, ২০০৮

No comments: