গত আলোচনায় এটাই সারমর্ম যে, অক্ষরবৃত্ত আর মাত্রাবৃত্ত মূলত যুক্তাক্ষর নির্ভর ছন্দ আর স্বরবৃত্ত হচ্ছে সিলেবল নির্ভর ছন্দ। এখন বিভিন্ন কবির কবিতা নিয়ে আলোচনা করা যাক। হাতের কাছে বুদ্ধদেব বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতার বইটা পেলাম। সেটারই কিছু কবিতা নেওয়া যাক।
“বর্ষার দিন” কবিতার প্রথম চার লাইন,
সকাল থেকেই/ বৃষ্টির পালা/ শুরু,
৬/৬/২
আকাশ-হারানো/ আঁধার-জড়ানো/ দিন।
৬/৬/২
আজকেই, যেন/ শ্রাবণ করেছে/ পণ,
৬/৬/২
শোধ ক’রে দেবে/ বৈশাখী সব/ ঋন।
৬/৬/২
এখানে দেখা যাচ্ছে ছন্দ ৬+৬+২ চালে গঠিত হয়েছে। সুতরাং এটি মাত্রাবৃত্ত। কারন এরকম পর্বে ৬ মাত্রার চাল মাত্রাবৃত্তেই হয়ে থাকে।
“কাউস্টের গান” কবিতার প্রথম চার লাইন,
প্রজ্বলিত,/ লুপ্ত আচ/ম্বিতে,
৪+৪+২
অঙ্গ তার/ বৈ্দ্যুতিক,/ চতুর :
৪+৪+২
ব্যগ্র মুঠি/ শূন্য ছেনে/ ফতুর,
৪+৪+২
কিংবা ঠকে/ ছিন্ন কাঁচু/লিতে।
৪+৪+২
গত আলোচনা থেকে এমনিতেই বুঝতে পারছেন যে এটি অক্ষরবৃত্তে লেখা।
“ম্যাল্ – এ” কবিতার অংশবিশেষ
‘আপনারা কবে? আমরা এসেছি সাতাশে।
(আপ+না+রা ক+বে/ আম+রা এ+সে+ছি/ সা+তা+শে)
৫+৫+৩
ওকভিলে আছি। আসবেন একদিন।’-
(ওক+ভি+লে আ+ছি আস/+বে+ন এক+দি+ন)
৬+৫
শাড়ির বাঁধনে শোভে শরীরের ইশারা,
(শা+ড়ির বাঁ+ধ+নে/ শো+ভে শ+রী+রের/ ই+শা+রা
৫+৫+৩
ঠোঁটের গালের রঙের চমকে কী সাড়া!
(ঠোঁ+টের গা+লের র+ঙের/ চম+কে কী সা+ড়া)
৬+৫
এখানে প্রথম ও তৃ্তীয় চরণে তিন মাত্রার ভাঙ্গা পর্ব আছে। কিন্তু বুঝা যাচ্ছে ছন্দটি স্বরবৃত্ত।
আমি চেষ্টা করলাম বের করার। এবার আপনারা মিলিয়ে নিন তো।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি কবিতার অংশবিশেষ
সবচেয়ে যে ছোট্ট পীড়ি খানি
সেই খানি আর কেউ রাখে না পেতে;
ছোট্ট থালায় হয়নাকো ভাত বাড়া,
জল ভরে না ছোট্ট গেলা সেতে।
এটিও স্বরবৃত্ত। ভাংগলে ৪+৪+২ চালে আসে। প্রশ্ন হচ্ছে এটা তো অক্ষরবৃত্তের চাল। কিন্তু সেই ছন্দে ভাংগলে এই চাল মিলানো যায় না।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment