Friday, January 21, 2011

ছন্দের সাতকাহন ১

ছন্দ কি?

সাহস করে শুরু করলাম। এগুলো বিষয় নিয়ে লেখা আসলে আমার সাধ্যের বাইরে। তবু নিজের ডায়েরি মনে করে লেখা শুরু করলাম। ছোটকালে গাইড বই সহ এই স্যার ওই স্যারের নোট থাকলেও নিজের একটা নোট বানিয়ে নেয়া আমার অভ্যাস ছিল। এটা সেরকমই।

ছন্দ কি? এই বিষয়ে আমি ইচ্ছা করলেই হাজারটা বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে একটা সেইরকম জ্ঞানী প্রবন্ধ লিখে দিতে পারি। কিন্তু আমার সেই উদ্দেশ্য একদম নেই। থাকলে আমি এই লেখা লিখতাম না। কারন ওসব জ্ঞানী কথা লেখা আমার কর্ম নয়। চলুন আলোচনায় চলে যাওয়া যাক।

ধরুন আমরা একটা রাস্তা বানাব। রাস্তা বানাতে অবশ্যি রাস্তার দুইপাশের এ্যালাইগমেন্ট ঠিক রাখতে হবে। এই এ্যালাইগমেন্ট যদি কোথাও পরিবর্তন করতে হয় তখন আমরা কি দেখি? একটি নির্দিষ্টমাপে একটু একটু করে পরিবর্তন করে দেওয়া্ হয়। রাস্তার বাঁক কতটুকু হলে একটা বাস রাস্তা থেকে আছড়ে পড়বে না তা সূত্র থেকে বের করা হয়। যারা পদার্থবিজ্ঞান পড়েছেন তারা ব্যাপারটি জানেন। তখনও রাস্তার এ্যালাইগমেন্ট ঠিক থাকে। কখনোই এলোমেলো মনে হয় না। আবার কোন পাহাড়ি রাস্তা চিন্তা করুন। এঁকেবেঁকে দিগন্তে হারানো রাস্তা, এ্যালাইগমেন্ট ঠিক থাকে না অনেক সময় কিন্তু ঠিকই একটা সৌন্দর্য আছে বলে মনে হয়। তবু তাকে এলোমেলো মনে হয় না। বরং চিত্রশিল্পীরা এইরকম একটা ছবি আঁকার জন্যে মুখিয়ে থাকেন। কবিতার ছন্দ ব্যাপারটাও এরকম।

তারপর ধরেন, একটা লোক সকালবেলা জগিং করতে বের হয়েছে। সে যদি একটা নির্দিষ্ট বেগে দৌঁড়াতে থাকে তখন একরকম, আবার মাঝে মাঝে এক মিনিট থেমে যদি জগিং করে সেটাও আরেকরকম। কিংবা সকালবেলা বের হয়েই একটা ভোঁ দৌড় দিল, তারপর কিছুক্ষন হাঁটল, এরপর একটু গতি বাড়িয়ে দিল, বাসায় ফেরার পথে আবারও ভোঁ দৌড় দিল। আমরা যদি একটু লক্ষ্য করি, তবে লোকটির জগিং একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেছে কিন্তু তা ব্যবহার হয়েছে স্বাধীনভাবে, তার ইচ্ছার উপর। হ্যাঁ, কারো কারো চোখে এই দৌড়টাকে সুশৃঙ্গল নাও মনে হতে পারে। এটাই আমাদের ছন্দ।

আবার একটু শিশু নতুন হাঁটতে শিখেছে। একটু পর পর ধপাস দিয়ে পড়ে। সেখানেও একটা সৌন্দর্য আছে। কবিতার ছন্দ এরকমও বটে।

আমি ছন্দ জিনিসটাকে এমনভাবে বুঝাতে চেয়েছি যে, সনাতন ছন্দ এবং আধুনিক ছন্দ দুইই চোখে পড়ে। শেষে বই থেকে একটা উদ্ধৃতি দিয়েই শেষ করি।

ড। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “বাক্যস্থিত পদগুলোকে যেভাবে সাজাইলে বাক্যটি শ্রুতিমধুর হয় ও তাহার মধ্যে ভাবগত ও ধ্বনিগত সুষমা উপলব্ধি হয়, পদ সাজাইবার সেই পদ্ধতিটিই হচ্ছে ছন্দ”

No comments: