Thursday, January 13, 2011

আমার প্রকাশিত কবিতাসমূহ



প্রত্যয়ান্তের গল্প


প্রথম ব্যক্তিঃ তাকে কোন দরজার সন্ধান দিয়েছ?
দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ কিসের দরজা?
প্রথম ব্যক্তিঃ তাহলে সে পাল্টায় গেল কিভাবে?
দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ ও আচ্ছা, তেমন কিছু বলি নাই।
প্রথম ব্যক্তিঃ তাহলে?
দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ তাকে শুধু বলেছি, এটা পদ্মার ঘাট আর ঐটা মেঘনার....
প্রথম ব্যক্তিঃ তাতেই....
দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ তাতেই কি?
প্রথম ব্যক্তিঃ তাতেই সে কথা বলতে শিখল?
দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ হ্যাঁ তাই।
প্রথম ব্যক্তিঃ কি বিচিত্র!
দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ হুম, বিচিত্রই বটে।
প্রথম ব্যক্তিঃ কয়েকদিন আগেও ওকে কেবল হাঁটা শিখতে দেখেছি।
দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ হুম, আমি ওকে একটু একটু করে বড় হতে দেখেছি।
প্রথম ব্যক্তিঃ সত্যিই বিচিত্র।
দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ একদিন ওর বড় হওয়ার গল্প শোনাব তোমাকে।

প্রকাশঃ নতুনদেশ পত্রিকা

ভাদু মোড়লের বৃত্তান্ত

হ্যামাগো দ্যাশে একখান ছোনার থালা আছিল
হোক্কলে মিইল্যা রোজই দ্যাখবার যাইতাম,
মাইনষ্যে কয়, হেইডা নাকি হ্যামাগোরই পরদাদার আছিল,
হ্যামি ভাদু মোড়ল, চাইলেনজ কইর‍্যা কইবার পারি,
ছোনার থালা হ্যামাগোরই পরদাদার আছিল;
হাসস্ ক্যানরে মাগি, তোর লাগি আমি মশকরা করিনি?
হেইডা একটা লম্ফ ইটিহাস-;
যে বদছর বাপে এইটা কইছিল-
হেইবার বইন্যা আহনের পরি তো ঢ্যাহা চইল্যা আইলাম,
ছোনার থালা, আর এই জইন্মে দ্যাখতে পানু না।
হ্যার পরি কত্ত বদছর চইল্যা গ্যাল
পরথম ইস্টিশনত আইস্যা উইঠলাম হোক্কলে মিইল্যা
আহনের পরি তো মা মইরা গ্যাল
লগে লগে হ্যামার ভাইগ্যটাও পুইড়লো
বাপে আরেকখান বেডি আইন্যা হ্যামারে খ্যাদাইয়া দিল,
গতর খাইট্যা, বাঁইচ্যা আছিলাম হেই সময়;
পাত্তা কুড়াইছি, মাডি কাটছি, লম্ফ লম্ফ ব্যালডিংয়ে কাম কইরছি
গতর খাইট্যা খাইছিরে বইন, গতর খাইট্যা খাইছি
মইনে অয়, হেইতো হেইদিনই, চোউক্ষে ভাইসস্যা উডে।
তোর দাদীক য্যান কবি বিয়াডা কইরলাম?
ছোন্দর আছিল হ্যামার কুলসুম, এক্কেরে পরীর ল্যাহান
আবার হাসস্ ক্যানরে মাগি?
তুই তো তোর দাদীরই গতর পাইছস, হাছাই;
ম্যামসাবগো ল্যাহান গতর লইয়্যা আইছিল
পরথম বদছরই তোর বাপেরে হ্যামার কোলে তুইল্যা দিল
কি তাগড়াই না আছিল আবুইল্যা, বাপকা ব্যাটা;
কান্দিস নারে বইন, কান্দিস না;
আবুল্যারে, বাজান আমার, তুই না কয়া কনে চইল্যা গ্যালি
তোর লাগি পাথ্থর হয়া তোর মাটাও হ্যামাক ফ্যালি চলি গ্যাল
হ্যামার পাটাও লিয়া গ্যালি তুইরে বাজান;
কান্দিস নারে মাগি, কান্দিস না
তোর লাগি হ্যামারও কান্দন চইল্যা আহে;
দ্যাহসনা, এত্ত শোক্কেও ঠিক্কই বাঁইচ্যা আছি;
তয় মইনে এ্যাকটাই দুক্কো,
ছোনার থালা আর এই জইন্মে দেখতে পানু নারে বইন
ছোনার থালা আর দ্যাখতে পানু না।

প্রকাশঃ লিটিল ম্যাগাজিন "ঘুড়ি"

গলিতে গলিতে ব্লাউজেরা

ভুল করে একদিন পুরনো গলিতে ঢুকে পড়লাম, কিছু সবুজ প্রাণির ধ্বংসাবশেষ দেখলাম, সবুজ প্রাণিরা এখন আর সবুজ নেই। ওদের গায়ের ব্লাউজ হঠাৎ করেই নিখোঁজ, ব্লাউজেরা আজ অন্য গলিতে, নতুন গলিতে ঝোলানো দড়িতে ঝুলে থাকে; মাঝে মাঝে বিদেশী সেন্টের পরশে ফুলে ফেঁপে উঠে। তখন ব্লাউজগুলো লাল-নীল-হলুদ হরেক রং ধারন করে; সে সময় আবার নতুন গলির খোঁজে, খুঁজতে খুঁজতে গলির রাস্তায় চতুর ভ্রুণ পড়ে থাকে। তবু বুদবুদ হাওয়া ভেসে বেড়ায় হৃৎপিন্ডে, ব্লাউজেরা নতুন গলি খুঁজতেই থাকে।
তারপর একদিন দেখলাম, সবুজ প্রাণিগুলোর আর ব্লাউজের দরকার হয় না, ব্লাউজবিহীনে তারা অভ্যস্ত। ওরাও গলি থেকে গলিতে ঘুরতে থাকে, নলখাগরার মানচিত্রের সাথে। তাই আজ ব্লাউজেরা নিশ্চল পড়ে থাকে, পুরনো গলিতে।

প্রকাশঃ নতুন দেশ পত্রিকা

নিরুদ্ধ স্পৃহা

চক্র পূরণ করে চলে শুয়োপোকাটি
সংগে তারই কিছু ভাই-বোন;
প্রতিদিন দেখি সন্ধ্যাবেলার পরে,
যখন আমি আপন মনে গুণতে থাকি
বুক পকেটে থাকা বাসের ছেঁড়া টিকিট,
আত্মচক্র পূরণে এখনো জমিয়ে রেখেছি;
নিউমার্কেট থেকে একটা অ্যালবাম কিনে
সেগুলোকে সাজিয়ে রাখব ভাবছি;
মলিন হয়ে যাচ্ছে বুক পকেটে থেকে
মলিন করে দিচ্ছে দিনগুলোকে।

তারপর অনেকদিন অতিবাহিত হবে,
অ্যালবাম দিন দিন বড় হতে হতে
শুয়োপোকাটির সাথে সখ্য গড়ে
উপহার দিয়ে দিব তাঁকে-
অ্যালবামে রাখা ছেঁড়া টিকিটগুলো;
হ্যাঁ, আজও প্রজাপতি হতে ইচ্ছে করে।

প্রকাশঃ নতুন দেশ পত্রিকা

এ বছর বন্যা হবে

প্রতিবারের মত ফাল্গুনের পর চৈত্র ঠিকই এল
তবু এবার দেরিতে বসন্ত আঁচ করল প্রকৃ্তি,
এই দেরি দেখে কেউ অজুহাত দিল না
শুধু অভিমান নিয়ে হঠাৎ দেখা দিল কিছু গাছের কচি পাতা
সাথে উড়ল কিছু প্রজাপতি, লাল নীল বেগুনী;
এমন সময়েই গলির মুখে নিশ্চল বসা এক মহিলা
উঁকি দিলেই দেখা যায় তার চুপসে থাকা ন্যাতানো বুক
নিস্তেজ স্তনের বোঁটা তবু মুখ দিয়ে টেনে চলে কোলের বাচ্চাটা
এভাবেই চুপচাপ দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল প্রকৃতির
আয় নেই, টিনের থালা, শিশুটির ঘুম আর নিশ্চুপ বসে থাকা।

তারপর একদিন মধ্যরাতে মহিলাটির কান্না
ঘুম ভাঙ্গা মানুষ, এবার খোলা জানালাটা লাগিয়ে দেয়;
দূরে কোথাও খেঁক শিয়াল ডেকে উঠে রাতের শেষে, তারপর
পরের সকালে, দেখা গেল না তাকে আর
শোনা যায় আপাতত আছে হাসপাতাল মর্গে
বাচ্চাটার হদিস নেই, হয়ত এবার টোকাই হবে
কিংবা পাচার হবে ওর কিডনী-চোখ
প্রথমে একটু হৈ চৈ, তারপর ভুলে যাওয়া কিছুদিন বাদে;
এভাবেই কিছুদিন পর একদিন, প্রকৃ্তি বর্ষা এনে দেয়
গলির মুখটায় এখন বৃষ্টির পানি জমে থাকে
এ বছর বন্যা হবে বোঝা যায়।

প্রকাশঃ বাংলাদেশনিউজ ২৪x৭

নদী

দুইকূল মিলে তার সৃষ্টি
যতদূর চোখ যায় দৃষ্টি
চারদিকে জল আর জল
পবন গায়েন করতল
যুগে যুগে পুষ্পিত প্রবাহ জলরাশি
সমুদ্র বিপুলা সেতো তোমারই মাসি।

প্রকাশঃ সময়ের ধ্বনি ডট নেট

স্বাধীনতার কথা

যখন স্বাধীনতার কথা মনে পড়ে
রক্তে তখন আনন্দের দামামা বাজে
চৈতন্যে স্ফুরিত হয় ইতিহাসের পাতা
যেখানে অমর শহীদের বীরত্ব গাঁথা
স্মরণ করি তাদের স্মরণিক স্তম্ভে
বুকের ছাতি ফুলে উঠে আশ্চর্য গর্বে
নতুন প্রজন্ম, নতুনের জয়গানে
বেজে উঠে সুর, আজো মুখরিত গানে
শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, দেশের বীরশ্রেষ্ঠ সাত
এখনো আছে সত্তায় অগ্নি ঝরা ধাত
ডেকে উঠি এখনো ওগো জন্মদাত্রী মা
আজো আমরা মাথা নোয়াবো না
ভাবনায় দোলা দেয় সেই অসীম বীরত্ব
এখনো চেতনায় জাগ্রত চিরসত্য
শামসুর রহমানের কবিতার কথা
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
অথবা রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা
মাতৃভূমির প্রতি অমোঘ ভালবাসা
প্রতিটি সময় জেগে উঠি উজ্জবিত
নতুন রণঅস্ত্রে আমরা সুসজ্জিত
ফিরিয়ে আনবো ফের বাংলার গৌরব
গোলাপের পাপড়িতে আনন্দ সৌরভ।

প্রকাশঃ সময়ের ধ্বনি ডট নেট

বিজ্ঞাপন

আড়িপেতে শুনি স্পন্দন আর ঘ্রানের কম্পনে
তন্নতন্ন করে খুঁজি জীবনের স্পৃহা আর জীবিকার সন্ধানে
একতারা থেকে আজ বহু বহু দূরে
মিনিটের প্রতিটি সেকেন্ড কাটে নিমজ্জিত হতাশায়
অন্ধ আজও স্বপ্ন আমার, চিম্বুক পাহাড়ের চূড়ায়।

নির্লজ্জ আমি, জানাই নিজেই নিজের বিজ্ঞাপন
আজ অন্যের মতই সুযোগ সন্ধানী অশরণ।

প্রকাশঃ “সবুজ অঙ্গন” লিটিল ম্যাগাজিন (নভেম্বর ২০১০)

পাতিত্য

একাকিত্বের দুঃস্বপ্ন, অদ্ভুত শব্দ
গোধূলী- মদির অন্ধকারে বিষণ্ন নাবিক;
দিনের পর দিন, রুদ্ধ কারাগারে
আকুতির আহাজারি, দীর্ঘশ্বাস
ভেংচিয়ে জানান দেয় শারিরীক ক্ষুধা;
অতৃপ্ত রাত্রির ধূলো জমতে জমতে
আজকের নায়ক খুঁজে কোন বেশ্যার দরজা,
ভালবেসে নয়, কিছুক্ষন শান্তির আশায়
চেপে ধরে তার বুকের নরম মাংসপিন্ড
আর সঙ্গমের পর জ্বলন্ত সিগারেট
ফেরে সেই নায়ক আসবাবহীন ঘরে,
মাকড়সার মত কাটিয়ে দেয় আরেকটি রাত।

প্রকাশঃ শব্দতরী লিটিল ম্যাগাজিন

অভিমান

মাঝে মাঝে একবুক অভিমান নিয়ে বসে থাকি
বুঝতে পারি না, কার প্রতি এই অভিমান?
বাষ্পে কেঁপে উঠে আমার বুক
জ্বালা করে উঠে আমার চোখের কোনা
নিজেকে নিষ্পৃশ্য মনে হয় অকারনে
একাকিত্ব ভর করে আমার ডান বাহুতে
হায়রে বেঁচে থাকা, অন্ধকারে নিমজ্জিত দিনরাত্রি।

যে অনলে পুড়ছি আমি, হ্যাঁ আমি জানি
সেটি আমার পূর্ব পরিচিত অনুভূতি
অনেকদিন ধরে আমার সন্নিকটে তার অবস্থান
সমস্ত হৃদয়ে বুলেটবিদ্ধ ক্ষত তারই সৃষ্টি
আমার ব্যর্থতা তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

প্রকাশঃ সময়ের ধ্বনি ডট নেট

আত্নবিগ্রহ

অপদেবতার আমন্ত্রণে গর্ভে তার লালসা
তারই টানে ক্রীতদাস তুমি, কটিবদ্ধ পাপী।

আকাশ আজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বেষ্টনী দিয়ে বিভক্ত
তার মাঝে বোকা কোকিলটার কোথাও জায়গা নেই
নিস্তার নাই ছুটোছুটি করা বোকা পোকামাকড়ের
ধিকি ধিকি আগুনের শিখা আর অন্ধ আক্রোশে
হয়তবা করে দেয় উৎসর্গ নিষ্পাপ জীবনের;
তবু আজও অক্ষমের ভাষা ঘৃ্নায় জাগ্রত চাহনি
গালে পরশ বুলায় দীর্ঘশ্বাসের রাতজাগা চুমু
শুকিয়ে গেছে জোয়ার ভাটার লোনাজল
তবু বেঁচে থাকে যুগলের নিঃশব্দ ভালবাসা।

প্রকাশঃ দ্রোহ ডট নেট

চিত্রার্পিত

তোমার কোন বিকল্প রাস্তা নেই
কারন বিকল্পের পিছনে যে কল্পনা থাকে
তার বিন্দুমাত্র নেই তোমার মস্তিষ্কে
অথবা বহুদিনের অব্যবহারে মরচে পড়ে গেছে
চিরচেনা দরজার ঝুলানো তালায়।
তুমি পাবে এবার বন্দির যন্ত্রনা
বদ্ধ নগরে আলোর জন্য হাহাকার।

প্রকাশঃ দ্রোহ ডট নেট

নিঃসঙ্গ প্রলাপ

বৈষয়িক বিষয়ের গড্ডালিকা
অহেতুক পাতাহারা ছুটাছুটি
সাথে আমার খন্ড খন্ড জীবনকাহিনী
হৃদয়ে অসংখ্য দুঃস্বপ্নের আধি
আর কিছু টুকরো টুকরো মৃত্যু
আজও সোনালী সাপের সাথে নিজেকে বাধি
শিরাই শিরাই অসংখ্য চিতাগ্নি জ্বলতে থাকে।
নিঃসঙ্গতায় বদ্ধ আমার অশ্রুজল
হৃদয়ে একান্ত কিছু কথা একাকী
অব্যক্ত রয়ে যায় আপন মনেই
অজান্তে সৃষ্টি হয় কিছু ক্ষত দৃষ্টিকোণ।
জলধারাই খুঁজি আপন আনন্দধারা
আপন মনে আপন সুরে
বেহালার সুরধ্বনি বাজায় আপন হৃদয়ে
লিপিবদ্ধ করি কোন বেসুর গীত
আপন ভালোলাগায়, নিজের প্রতি ভালবাসায়
নিজেকে প্রশ্ন করে অবাক হই
কিসে এ সুরের রহস্য?
তবে কি নিঃসঙ্গতায় এর প্রেরনা?
সৃষ্টি হয় আরেকটি ক্ষত দৃষ্টিকোণ
এ কেমন হৃদয়ের নিঃসঙ্গ মন।
আকাশে আমি একটি তারায় খুঁজি
মন আমার পাড়াগাঁর রাখালটির মত
নতুন ভোরের মত নিঃষ্পাপ, সরল
সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ, সুন্দর-বিশ্রী
আমি কিছুই বুঝিনা, কিছুই মানিনা
আপন মনে বাঁজায় বাঁশির সুর।
কিন্তু নিত্যনিয়ম, সুদিনের অসহায় আত্নসমার্পন
উদাসী মনের খেয়ালী স্বপ্ন
পিষ্ট হয়ে মরে বাস্তবের ভীরে
নরক নদীর তীরে একাকী
আমার কবর আমিই খূঁড়ে চলি।

প্রকাশঃ মেমোরিয়া ব্যাচ ০৪ ম্যাগাজিন

প্রশ্ন যখন ভবিষ্যতের

কবিতার কাস্তেটা ধার দেই সকাল-বিকাল
কিন্তু কি লিখব?
কি লিখারই বা আছে?
পূ্র্বসূরিরা তো সবই লিখে গেছেন
অনেক আগেই উড়িয়েছেন স্মরনীয় মর্যাদার মশাল।

প্রকৃতির কবিতা?
স্বদেশের, সমাজের, প্রেমের, ইতিহাসের কবিতা?
রাজনৈতিক কবিতা?
মৃত্যু কিংবা পরাবাস্তবের কবিতা?
হায় ঈশ্বর কিছুই যে বাকি নেই
দ্যুলোকে-ভ্যূ্লোকে দিশাহারা হই
তাই বলে আমি তাদের দোষ দেই না
বরং গর্বে আমার মন ভরে উঠে
ফুসফুসে নিয়ে নেই মহুয়ার বাতাস।

তবু মাঝে মাঝে কলম নিয়ে খেলি
অভিমানগুলোকে ছুড়ে দেই কবিতার লাইনে
কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করি
কি হবে আধুনিকতার আধুনিকতম সংস্করণ?
কি হবে তার বিষয়-আশয়?
কি হবে তার রঙ, গন্ধ?
কি হবে তার ফুল?
গাইব কি এখনও অমঙ্গলের লীলা?
প্রশ্ন জানি অনেক, উত্তর তো জানি না।

কবিতায় আমার ধ্যান-জ্ঞান
তাই নিজেকে প্রশ্ন করি বার বার
নিজেই নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেই আধুনিকতার সাথে
সুরে আমার আধুনিকতার গান
কিন্তু কবিতার পাশে আমি একা
মহাকাল আজ দক্ষিণ কর আমার দিকে।

প্রকাশঃ মেমোরিয়া ব্যাচ ০৪ ম্যাগাজিন

চক্র

জীবন যেন এক নিয়তির চক্র
খুনের বদলে খুন কিংবা মৃত্যুর বদলে মৃত্যু
আর প্রতিশোধের বদলে প্রতিশোধ
ঈর্ষা-হিংসা, পরশ্রীকাতরতায় পরাস্ত জীবনে
একে অপরের অন্তরে হাজারটা ফ্লোরোসেন্ট বাতি জ্বেলে
ঘুষ দিয়ে কিনে নেয়;সব নাটকে নাটের গুরু
তারপর ভেঙ্গে ফেলে সব প্রতিশ্রুতি
নিমকহারাম,সব বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর কীটপাথর
নেমে আসে নিয়মিত চক্রে; ঝরা পাতা অভিশাপ
বিষফণা; ছোবল দিয়ে বসে বিষাক্ত সাপ।

পূর্বসুরীর পাপ টেনে আনে বর্তমান
বিবর্ণ দিনের সাথে আলকাতরার মতো রাত্রি
প্রলুব্ধ অবৈধ যৌন সঙ্গমে লিপ্ত
ব্যাভিচারী হারামজাদাদের নৌকায়
সহোদরের রক্ত চুষে চলে সহোদরে
কালো রক্তের নদী বয়ে চলে
হাজার হাজার মানুষের বলিদানে
পায়ে চলা পথের শেষে কান্নার শব্দ ভেসে আসে।

তারপর একদিন আসে এক মহান মুক্তিদূত
প্রায়শ্চিত্ত করে তবেই ধুয়ে পাপ
গন্তব্য সত্যের সন্ধানে সত্যের ধাপ।

প্রকাশঃ সবুজ অঙ্গন কবিতা সংকলন (বইমেলা ২০০৯)

নরকে বসবাস

সারাদিনরাত মৌন মন্ত্র কর্মহীন
রুদ্ধঘরে বোবা সঙ্গীহীন
মৃত্যুখেলা আত্নহত্যা সম্মোহন
এ স্বপ্ন না মায়া নাকি মতিভ্রম ।

প্রাণহীন রক্তবর্ন মৃত্তিকার স্পর্শে
অন্ধ অতলে ডুবছি উচ্চস্বরে
দহন পীড়নে উত্তপ্ত ধরনী
রক্ত শুষে চলে ঐ রুপকথার পিশাচিনী ।

কাল বিহঙ্গ উড়ে যায়, অবিস্রান্ত গতি
উদাসীন মাঠে মাঠে আত্নারতি
পাখার ঝাপটে প্রদীপ যায় নিভে
পালকের মতো খসে পড়ি সেই বায়ুস্রোতে।

অন্তিম যাত্রা স্বার্থের সংঘাতে
শুয়ে ছিলাম স্বপ্ন কল্পতরুমূলে
নিস্তব্ধ নিরুপায় আজ কল্পিত ঈশান
কে বিছাবে আমার অনন্ত শয়ান।

প্রকাশঃ কুয়েট বার্ষিকী ২০০৮

ধ্যান

সুলভ শ্রেণীর বগি, চলছে ট্রেন
জানালার পাশে আমার সিট
বাইরে তাকাই,বৃক্ষরাজী
জীবনমোহে সঙ্গিনী হারানো পাখি
রেললাইনের অদূরে পরিত্যক্ত স্লিপার
জলন্ত কয়লার মাঝে ঝিঁক ঝিঁক শব্দ
স্পীকারে আজানের ধ্বনি, সুরেলা ধ্বনি
তবু বসে থাকি জানালার ধারে, নিবিষ্ট মনে।

হাহাকার ম্লান মুখে বসে জানালায়
নিষ্পাপ বুক জুড়ে কিছু আবেগ
ঝর্ণাধারার মতো আসে স্বপ্ন
ঘাড়ের কাছে ব্যাথা,সারাদিন বসে
অবিশ্রাম গতির মাঝে স্থবির জীবন
আকাশে উড়ে শিমুল তুলা
ডুবছি ভাসছি চিন্তার জ্বালে
নিশ্চুপ নিরূপায় ধ্যানে মগ্ন।

কিন্নরকন্ঠী গান ভেসে আসে
চিন্তা চেতনা বিলুপ্ত,অস্থির চাঞ্চল্য
অদৃশ্য গায়িকাবেশী নারী
ফুটে কিছু ফুল, বসন্তের সংকেতে
চেতনায় দখল করে তীব্র আধিপত্য
বয়ে চলে রক্তের স্বাভাবিক স্রোতধারা
বসে থাকি, বুনি নতুন স্বপ্নের বীজ
জানালার ধার, নিশ্চুপ নিরূপায় ধ্যান।

প্রকাশঃ মনবিহঙ্গ লিটিল ম্যাগাজিন

মৃত্যু

নদীতে ভাসছে নব্য শাপলা পল্লব
নিলীমায় শরতের শুভ্র মেঘগুচ্ছ
তবু সব কিছু অবসাদগ্রস্ত, বিষাদযুক্ত
যতদূর দেখি শুধুই ইটের অরন্যানী
অন্তিম পথে শুনি ক্রন্দিত আওয়াজ
আমি বিষের পাত্র ঢেলে দিয়েছি
এখন দিয়মান মৃত্যুর বিশেষ অধিকার।

মেঘে, মেঘে, মেঘেই দিন গেল
নতুন জীবনের ঠিকানা আর পেলাম না
বিলুপ্ত দৃশ্য বিষন্ন অন্তহীন পটভূমি
কোন আশা নেই, সবই দুঃসহ গন্ধবহ
তৃপ্তিহীন সৌ্রভ ছড়ায় আত্নার গহনে
কুরে কুরে খাচ্ছে আমার হৃপিন্ড
ঝিমধরা সন্ধ্যায় দাড়িয়ে নিষ্পলক
কিছু অতৃপ্ত অতীত স্বপ্ন মনে পড়ে
বিষাদের বেলাভূমিতে বন্দি আমার একাকীত্ব
অপেক্ষা করি আসন্ন মৃত্যুর জন্য।

চারিদিকে ঘিরে চলেছে আশ্চর্য্য ব্যাথা
কি লাভ আর নিয়তির পিছু ছুটে
তারচে বরং উৎপীড়ক মৃত্যুই শ্রেয়
হব শুধুই মৃত্যু্র কাছে পরাজিত
ধুয়ে মুছে যাক সব ক্লান্তি,বিষন্নতা।

প্রকাশঃ মনবিহঙ্গ লিটিল ম্যাগাজিন (ভুল করে অন্যের নামে ছাপা হয়েছে)

No comments: